নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার ৭ নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের যোবায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর প্রদীপ’। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনের এ উদ্যোগ এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের মাঝে শতাধিক কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এবারের কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দিদার হোসেন জাহাঙ্গীর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বাবলু, সাংবাদিক একেএম ইব্রাহিম খলিল, এবং যোবায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র নাথ।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক আবু তাহের, মাহফুজ, খলিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলোর প্রদীপ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বাপ্পি।
উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, সমাজের দরিদ্র মানুষের জন্য এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। শীতের সময় যখন অনেক অসহায় মানুষ কষ্টে দিন কাটান, তখন একখানা কম্বল তাদের জন্য বড় সহায়তা।
এ বিষয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দিদার হোসেন জাহাঙ্গীর ফোনে জানান—
“আলোর প্রদীপ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় আলোর প্রদীপ যাত্রা শুরু করেছে মানবতার সেবাকে মূল মন্ত্র ধরে। শীতার্ত মানুষের কষ্ট আমরা অনুভব করি, তাই প্রতিবছর শীতবস্ত্র নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও বৃহৎ পরিসরে চালিয়ে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন,
“যদি সমাজের সকল সচ্ছল মানুষ একসাথে এগিয়ে আসে, তবে একটি মানুষকেও শীতের কারণে কষ্টে থাকতে হবে না। আমরা চাই—মানবিক কাজের মাধ্যমে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে।”

মানবিক এই উদ্যোগ একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
শীতবস্ত্র হাতেপেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের চোখেমুখে ছিল কৃতজ্ঞতার ছাপ। অনেকেই বলেন, কনকনে শীতে একটি কম্বল তাদের জন্য বড় সহায়তা। এ উদ্যোগকে তারা ‘আশার আলো’ হিসেবে আখ্যা দেন।
