নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্নে মড়ক দেখা দিয়েছে। শুরুতে ধান গাছের আশাব্যঞ্জক বৃদ্ধি দেখে কৃষকরা আশার আলো দেখলেও, বর্তমানে মাঠের পর মাঠ ফসল রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। শুধু ধান নয়, সয়াবিনসহ ডালজাতীয় ফসলের ফলনও এবার আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে চরবাটা ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধানের ক্ষেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণে ধানের ছড়া ও পাতা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এবার বোরো আবাদে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ:
চরবাটার স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এমসিসি গোলাম মাওলা বলেন, “এ বছর সুবর্ণচরের কৃষকেরা বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেছিল। চারা রোপণের পর থেকে ধানের গ্রোথও ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কিন্তু ইদানীং প্রায় প্রতিটি ক্ষেতের ফসল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ফলন দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কেন জানি এ বছর সয়াবিনসহ ডালজাতীয় ফসলের ফলনও আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে না। বিষয়টি দ্রুত কৃষি বিভাগের নজরে আসা জরুরি। আমরা সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (SAAO) আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের দাবি, ফসলের এই সংকটময় মুহূর্তে তারা প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ পাচ্ছেন না। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি এবং পরামর্শের অভাবে অনেক কৃষকই ভুল বা অকার্যকর কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা সমস্যার সমাধান না করে উল্টো খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সুবর্ণচরের কিছু এলাকায় আবহাওয়াগত কারণে ধানের গ্রোথ কিছুটা ব্যাহত হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। তবে একে ‘মড়ক’ না বলে সাময়িক ‘রোগবালাই’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, “আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা (SAAO) নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক সময়ে সঠিক ছত্রাকনাশক বা কীটনাশক ব্যবহার করলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”
কৃষি অফিস আরও জানায়, সয়াবিন ও ডালজাতীয় ফসলের ফলন বাড়াতে তারা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে কোনো কৃষকের সমস্যা থাকলে তারা সরাসরি উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিক কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
সুবর্ণচরের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং কৃষকদের এই বড় লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে মাঠ পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চরবাটাসহ পুরো উপজেলার ভুক্তভোগী কৃষকরা।
