ফেসবুক বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আয়ের সুযোগ আরও সহজ এবং বৈচিত্র্যময় করেছে। ২০২৬ সালে মেটা (Meta) তাদের মনিটাইজেশন পলিসিতে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছে। আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইলকে ‘প্রফেশনাল মোড’-এ রূপান্তর করে থাকেন, তবে নিচের ৫টি নতুন নিয়ম মেনে আপনিও আয় করতে পারেন:
১. ইউনিফাইড কন্টেন্ট মনিটাইজেশন (Unified Program)
আগে রিলস (Reels), ইন-স্ট্রীম অ্যাডস এবং পারফরম্যান্স বোনাসের জন্য আলাদা আলাদা আবেদন করতে হতো। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মেটা এই সবগুলোকে একটি মাত্র ‘Content Monetization’ প্রোগ্রামের অধীনে নিয়ে এসেছে। এখন একবার এলিজিবল হলে আপনি ভিডিও, রিলস, এমনকি ছবি এবং টেক্সট পোস্ট থেকেও আয় করতে পারবেন।
২. ফলোয়ার ও ওয়াচ-টাইমের নতুন শর্ত
২০২৬ সালে মনিটাইজেশনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কিছু পরিবর্তন এসেছে:
-
ফলোয়ার: ন্যূনতম ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ ফলোয়ার (প্রোগ্রাম ভেদে)।
-
ওয়াচ-টাইম: গত ৬০ দিনে ভিডিওতে অন্তত ৬০,০০০ মিনিট ভিউ থাকতে হবে।
-
সক্রিয় ভিডিও: আপনার প্রোফাইলে অন্তত ৫টি সচল বা একটিভ ভিডিও থাকতে হবে।
৩. এআই (AI) এবং অটো-ডাবিং সুবিধা
মেটা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে ভিডিওর ক্যাপশন এবং ভয়েস ওভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করার সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে আপনার বাংলা কন্টেন্ট বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং আপনি আন্তর্জাতিক ভিউ থেকে বেশি ডলার আয় করতে পারবেন।
৪. স্টোরি এবং টেক্সট পোস্ট থেকে আয়
আগে শুধু ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখা যেত, কিন্তু এখন আপনার দেওয়া নিয়মিত Facebook Stories এবং তথ্যবহুল Text Posts-এর পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে মেটা আপনাকে অর্থ প্রদান করবে। আপনার পোস্টে যত বেশি এনগেজমেন্ট (লাইক, কমেন্ট, শেয়ার) আসবে, আয়ের সম্ভাবনা তত বাড়বে।
৫. অরিজিনাল কন্টেন্ট পলিসি (Strict Originality)
২০২৬ সালে কপিরাইট বিষয়ে ফেসবুক অত্যন্ত কঠোর। অন্যের ভিডিও বা রিলস সামান্য এডিট করে আপলোড করলে এখন আর টাকা পাওয়া যাবে না। এমনকি টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের ওয়াটারমার্কসহ ভিডিও আপলোড করলে সাথে সাথে মনিটাইজেশন বাতিল হয়ে যাবে। তাই সম্পূর্ণ নিজের তৈরি ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করাই আয়ের একমাত্র টেকসই উপায়।
