প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সংসদ সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘ফার্মার কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান, দেশের প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দিতে এই ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই সরাসরি সরকারের প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা পেতে পারেন, সেজন্যই এই ‘ফার্মার কার্ড’ চালু করা হচ্ছে।”
১. সরাসরি ভর্তুকি: সার, বীজ ও কীটনাশকের ওপর সরকারি ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা ডিজিটাল ওয়ালেটে পৌঁছে যাবে।
২. সহজ শর্তে ঋণ: কোনো জামানত ছাড়াই ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ গ্রহণের সুবিধা পাবেন।
৩. স্মার্ট ডাটাবেজ: এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষকের জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন এবং বাৎসরিক উৎপাদনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
৪. দুর্যোগকালীন সহায়তা: বন্যা বা খরায় ফসলের ক্ষতি হলে কার্ডধারী কৃষকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পাবেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ ক্যাম্প করে কার্ড বিতরণের উৎসব পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না হয় এবং প্রকৃত ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা যেন এই তালিকার বাইরে না থাকে।
