ঈদের ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আজ সকাল থেকে মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ১১৪ জন রোগী, যাদের একটি বড় অংশই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের সিংহভাগই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এসেছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশই বেপরোয়া মোটরসাইকেল এবং অবৈধ থ্রি-হুইলার বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার। অনেকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আবার কারো শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর হাড় ভেঙে গেছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, “ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে হেলমেট ছাড়া এবং উচ্চগতিতে বাইক চালানোর প্রবণতা এই ট্রাজেডি ডেকে আনছে।”
হাসপাতালের করিডোর জুড়ে এখন স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। ঢাকার বাইরে থেকে আসা একজন অভিভাবক জানান, ঈদের আনন্দ করতে বন্ধুদের সাথে বাইক নিয়ে ঘুরতে গিয়ে তার সন্তান আজ হাসপাতালের বিছানায়। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী হবে এবং কারো কারো স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকি রয়েছে।
পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চাপ সামলাতে তারা অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স মোতায়েন করেছে। তবে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হলেও বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
