আগামীকাল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঐতিহাসিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন ও প্রেক্ষাপট
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল, ২০২৬) পহেলা বৈশাখের সকালে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। আজ সোমবার দুপুরে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জানিয়েছেন, এটি দেশের কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি মাইলফলক। সরকার কৃষকদের জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ৫টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে:
-
ভূমিহীন: ৫ শতাংশের কম জমি।
-
প্রান্তিক: ৫ থেকে ৪৯ শতাংশ জমি।
-
ক্ষুদ্র: ৫০ থেকে ২৪৯ শতাংশ জমি।
-
মাঝারি ও বড়: ২৫০ শতাংশের বেশি জমি। (প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরাই আর্থিক সহায়তা পাবেন)
এই কার্ডটি কৃষকদের জন্য একটি অল-ইন-ওয়ান সমাধান হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন:
নগদ সহায়তা: বছরে সরাসরি ২,৫০০ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা।
সাশ্রয়ী উপকরণ: সার, বীজ, মাছ ও পশুখাদ্য সুলভ মূল্যে কেনা।
সহজ ঋণ: অত্যন্ত সহজ শর্তে কৃষি ঋণ সুবিধা।
সেচ সুবিধা: ন্যায্যমূল্যে সেচ সেবা প্রাপ্তি।
ভর্তুকি ও প্রণোদনা: সরকারি সব ভর্তুকি সরাসরি এই কার্ডের মাধ্যমে প্রদান।
আবহাওয়ার তথ্য: মোবাইলে তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা।
বাজার দর: ফসলের বর্তমান বাজার দর যাচাইয়ের সুবিধা।
পরামর্শ সেবা: ফসলের রোগবালাই দমনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ।
কৃষি বীমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির বিপরীতে বীমা সুবিধা।
প্রশিক্ষণ: কৃষি বিষয়ক আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা।
প্রথম পর্যায় (প্রি-পাইলটিং): দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২২,০৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হচ্ছে (যার মধ্যে ২০,৬৭১ জন সরাসরি নগদ সহায়তা পাবেন)। আগামী ৪ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রায় ৬৮১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে।
