বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম ও পবিত্রতম ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২৬ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ডিপ্লোমা ফরেষ্ট্রি এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু সুপন বড়ুয়া (এমএ, এলএল.বি)।
এক বার্তায় অনলাইন নিউজ নবশক্তিকে তিনি বলেন, বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক মহিমান্বিত দিন। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপিত হয়। দিনটি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণের স্মৃতি বিজড়িত, যা ইতিহাসে ‘ত্রিস্মৃতি বিজড়িত’ পবিত্র তিথি হিসেবে পরিচিত।
বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য ও ধর্মীয় আয়োজন
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহারগুলোতে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। এই দিনে তারা সুন্দর পোশাক পরিধান করেন, বিহারগৃহ ফুলের মালা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে সুশোভিত করেন। এছাড়া দিনব্যাপী বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ ও সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন থাকেন ভক্তরা।
বৈশাখী পূর্ণিমার বিশেষ গুরুত্ব
- ত্রিস্মৃতি বিজড়িত: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে এই তিথিতেই গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ ঘটেছিল।
- ধর্মীয় আচার: পবিত্র স্নান সেরে বৌদ্ধ অনুসারীরা বিহারে গিয়ে বুদ্ধের চরণে পূজা, ফুল, ধূপ ও মোমবাতি অর্পণ করেন।
- ত্রিরত্ন বন্দনা ও দান: বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘ—এই ত্রিরত্ন বন্দনার পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে দান এবং পঞ্চশীল ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণের শপথ নেওয়া হয়।
শুভেচ্ছা বার্তায় সুপন বড়ুয়া আরও বলেন,
”অহিংসা পরম ধর্ম—এই মহামন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায় আজ বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্যের প্রার্থনা করছেন। জীব হত্যা মহাপাপ এবং অহিংসা নীতির মাধ্যমে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণই হোক এবারের বুদ্ধ পূর্ণিমার অঙ্গীকার। আমি দেশবাসীকে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের এই পবিত্র উৎসবে শুভেচ্ছা জানাই।”
বুদ্ধ পূর্ণিমার মহিমা ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ভগবান বুদ্ধের জীবন ও আদর্শ আমাদের সঠিক পথ দেখায়। তাঁর শিক্ষা আমাদের ভালো মানুষ হওয়ার প্রেরণা যোগায়। আজকের দিনে বুদ্ধের সেই পবিত্র বাণী অনুসরণ করে আমরা যেন সবাই একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারি এবং সুন্দর একটি সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারি—এটাই আমাদের কাম্য।
বৈশাখী পূর্ণিমা শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তি, সৌহার্দ্য ও অহিংসার প্রতীক হিসেবে সমাদৃত। এই দিনে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বিশেষ ধ্যান এবং দুঃস্থদের মাঝে অন্ন ও বস্ত্রদানের মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ১ মে ২০২৬ খ্রি: সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করা হবে। দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে।

