শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই, তবে সেই শিল্পকে যদি ধর্মীয় মূল্যবোধের ফ্রেমে বেঁধে নেওয়া যায়, তবে তা হয়ে ওঠে অনন্য। তেমনই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ১নং বাগানবাজার ইউনিয়নের পাতাচড়ি গ্রামের সন্তান কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়তের বিধি-নিষেধ মেনে তিনি ফুটিয়ে তুলছেন একের পর এক অসাধারণ শিল্পকর্ম।
পারিবারিক পরিচিতি ও শিক্ষাজীবন
পশ্চিম পাতাচড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী আব্বাস আল কাজী বাড়ির মৃত কাজী আব্বাস আলী ও মাতা বিবি মরিয়মের ৮ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। শৈশব থেকেই দ্বীনি শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই গুণী মানুষটি পড়াশোনা করেছেন হেয়াকো দাখিল মাদ্রাসায়। এরপর করের হাট আলিম মাদ্রাসা থেকে আলিম এবং উত্তর বগাচতর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সফলতার সাথে উনার শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন।
শখের বশে শুরু, অতঃপর শিল্পে আত্মপ্রকাশ
ছোটবেলা থেকেই রং-তুলির প্রতি ছিল উনার অন্যরকম এক টান। সেই ভালোবাসার টানেই ২০০০ সাল থেকে শখের বশে আর্ট বা চিত্রকর্মের জগতে উনার পা রাখা। প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের মেধা ও মনন দিয়ে রপ্ত করেছেন ক্যানভাসে রং ফুটিয়ে তোলার কৌশল।
ধর্মীয় গণ্ডিতে শিল্পের বিকাশ: আঁকেন না কোনো প্রাণী
সাধারণত চিত্রশিল্প বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর ছবি। কিন্তু কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এখানেই অনবদ্য ও আলাদা। ইসলামী মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে তিনি কঠোরভাবে মেনে চলেন ধর্মীয় বিধি-নিষেধ। তাই উনার তুলিতে কখনোই স্থান পায় না কোনো সজীব প্রাণীর অবয়ব। এর পরিবর্তে তিনি প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বিশেষ করে চমৎকার সব ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ও ল্যান্ডস্কেপ ফুটিয়ে তুলে নিজের মনের সুপ্ত শখ পূরণ করে চলেছেন।
সমাজ ও দ্বীনি খিদমতে অবদান
কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কেবল একজন নিভৃতচারী শিল্পীই নন, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে উনার অগ্রগণ্য ভূমিকা। তিনি দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করেরহাট মনতাজি ভূইয়া বাড়ি জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রসুলপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সুপার পদে কর্মরত আছেন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন।
“ধর্মীয় অনুশাসন মেনেও যে মনের ভেতরের শৈল্পিক সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখা যায় এবং সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা যায়, কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” — স্থানীয় গুণীজন
ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে শরিয়তসম্মত উপায়ে শিল্পের চর্চা তুলে ধরার ক্ষেত্রে উনার এই পথচলা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ফটিকছড়ির এই ক্যালিগ্রাফি শিল্পীর সুন্দর ও সুস্থ শিল্পচর্চার ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আরো জানান, তিনি মাদ্রাসা শিক্ষকতা ও নামাজের ওয়াক্তবাদে বাকি সময় চিত্রকর্মের কাজে ব্যয় করে থাকেন। বর্তমানে তিনি উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড, ব্যানার তৈরি এবং সিএনজি, অটোরিকশা, ট্রাক, বাস ও পিক-অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড চিত্রকর্মের মাঝে ফুটিয়ে তুলেন। চিত্রকর্মের কাজে গুণী এ মানুষটির সাথে ০১৮১৫-৬৩৬৫০৮ নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন বলেও তিনি জানান।
