দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে আশ্বাসের বাণী শোনালেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, তা শেষ হওয়ার আগেই নতুন চালান দেশে এসে পৌঁছাবে। ফলে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর সরবরাহের পরিমাণ ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, শুধু এপ্রিল মাসেই ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা এবং পাম্পগুলোতে অহেতুক ভিড় নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। অযথা আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুত করার প্রয়োজন নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে বাজারে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।” তিনি আরও জানান, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে সারাদেশে ইতোমধ্যে তিন হাজারেরও বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প পথেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব থেকে বিকল্প রুটে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
