Noboshakti Logo
ঢাকাশনিবার , ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি বিশ্ব
  3. আজকের পত্রিকা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ও জীবন
  6. একদিন প্রতিদিন
  7. কোভিড-১৯
  8. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
  9. খেলা
  10. চাকরি
  11. চিত্র বিচিত্র
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ডাক্তার আছেন
  15. দরকারি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার রোধ: ৩০ লাখ ডলার বা তার বেশি আমদানিতে নতুন নজরদারি ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অগাস্ট ২৯, ২০২৬ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার ও অবৈধ অর্থ স্থানান্তর ঠেকাতে বড় অঙ্কের আমদানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের যেকোনো আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে তথ্য দিতে হবে।

অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন ‘আমদানিনীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতির সাম্প্রতিক নির্দেশনার আলোকে এই বিধান কার্যকর করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি আমদানির ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়।

যা থাকছে নতুন নির্দেশনায়:

  • আগাম তথ্য জমা: ৩০ লাখ ডলার বা তদূর্ধ্ব মূল্যের আমদানির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে এলসি খোলার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে অনলাইন আমদানি তদারকি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।

  • কঠোর যাচাই-বাছাই: শুধু পণ্যের তথ্য নয়; বরং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ধরন, লেনদেনের যৌক্তিকতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং বিদেশি রপ্তানিকারকের পরিচয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।

  • নথিপত্রের সামঞ্জস্য: পণ্যের ঘোষিত মূল্য, বাণিজ্যিক চালান, শিপিং ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রের মধ্যে সঠিক মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ব্যাংকগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

  • পরিধি বৃদ্ধি: এলসিভিত্তিক আমদানির পাশাপাশি এলসি ছাড়া অনুমোদিত শিল্প আমদানি এবং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অনুমোদিত বাণিজ্যিক আমদানির তথ্যও অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে।

অনিয়ম রোধ ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সুবিধা: সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বা ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা। আবার অনেক ক্ষেত্রে ঘোষিত পণ্যের সাথে প্রকৃত আমদানীকৃত পণ্যের অমিল থাকে। নতুন এই নজরদারির ফলে এসব অনিয়ম আগেভাগেই শনাক্ত করা সহজ হবে। এ ছাড়া বড় অঙ্কের আমদানির আগাম তথ্য থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর সম্ভাব্য চাপ সম্পর্কেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে থেকে ধারণা লাভ করতে পারবে।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত: এদিকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থপাচার রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হলেও বৈধ আমদানিতে যেন কোনো ধরনের অযথা বিলম্ব না ঘটে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও উৎপাদনসংশ্লিষ্ট জরুরি আমদানির ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর তারা জোর দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যেকোনো অঙ্কের আমদানির ক্ষেত্রেই যথাযথ যাচাই-বাছাই থাকা উচিত। আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের পরিচয়, পণ্যের প্রকৃত মূল্য এবং বাণিজ্যিক নথিপত্রের সঠিকতা নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। তার মতে, এই ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়ন আমদানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়িয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।