প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও, এই সফরের আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা জোরালোভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রবিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।
ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক কল্যাণ, সার্বভৌম সমতা ও জাতীয় মর্যাদা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
ঢাকার প্রধান দুটি শর্ত
১. প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ: দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২. হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের অবিলম্বে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, “আমরা এই বিষয়ে ভারত সরকারের প্রত্যুত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি।”
যে কারণে প্রক্রিয়া কলুষিত হয়েছে
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও দিল্লির কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলাপ-আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। তবে গত ৫ আগস্ট নয়া দিল্লিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুরো প্রক্রিয়াটি হোঁচট খেয়েছে বলে মনে করছে ঢাকা।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “অবশ্য, ৫ আগস্ট নয়া দিল্লিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের কারণে সেই প্রক্রিয়াটা কলুষিত হয়। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি।”
সফরের সম্ভাব্য সময় ও অনিশ্চয়তা
এর আগে গত শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে কিছু চাপা উত্তেজনা থাকলেও আগামী সপ্তাহেই (সম্ভাব্য তারিখ ২২-২৩ আগস্ট, অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে। ওই সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার কথা ছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট দুটি শর্ত সামনে নিয়ে আসায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শেষ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে নাকি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি অটুট
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিকে সামনে রেখে প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই কূটনৈতিক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।
