ফুটবল মাঠে বয়সের তুলনায় অসাধারণ পরিণত লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বার্সেলোনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন তিনি এবং স্পেনের হয়ে জিতেছেন ইউরো ট্রফি। চলতি মৌসুমেও লা লিগায় ছয় ম্যাচে সাত গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে বর্ণবাদের মতো তিক্ত অভিজ্ঞতাও।
প্রায় ‘হাজারবার’ বর্ণবাদের শিকার
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুভিস্টারের একটি সাক্ষাৎকারে বর্ণবাদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ইয়ামাল। সাক্ষাৎকারটি স্পেনে ১৮ সম্প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই এর কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেখানে বার্সেলোনা তারকা খোলামেলাভাবে জানান, ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ‘হাজারবার’ বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন।
ইয়ামালের মতে, সব সময় সরাসরি বা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ণবাদ প্রকাশ পায় না। অনেক সময় মানুষ এমন কিছু মন্তব্য বা আচরণ করে, যেগুলো নিজেরাও বর্ণবাদী বলে মনে করে না। কিন্তু সেই মন্তব্য কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেও বর্ণবাদের প্রকাশ থাকতে পারে।
বর্ণবাদ নিয়ে ইয়ামালের দৃষ্টিভঙ্গি ও বার্নাবেউয়ের ঘটনা
এমন অভিজ্ঞতা তাকে বর্ণবাদ মেনে নিতে শেখায়নি—এ বিষয়টি স্পষ্ট করে ইয়ামাল জানান যে কোনো ভুল বা অন্যায়কে কখনোই স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তবে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে এখন তিনি সেগুলোকে নিজের খেলায় প্রভাব ফেলতে দেন না।
সাক্ষাৎকারে তিনি সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ের একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। সেখানে তাকে ও বার্সেলোনার সতীর্থ রাফিনিয়াকে উদ্দেশ করে গ্যালারি থেকে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ইয়ামালের শান্ত থাকার বিষয়টি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে ইয়ামাল দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন:
“আমাকে ‘কালো’ বলা হলে তাতে আমার সামান্যও আপত্তি নেই, কারণ আমি কালোই।”
তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, একই শব্দ যখন কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তখন বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ নিজের পরিচয়ের কোনো বিষয়কে তিনি অপমান হিসেবে দেখেন না; বরং আপত্তি হলো সেটিকে কাউকে হেয় বা আঘাত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
মাঠের সাফল্য ও অদম্য মানসিকতা
২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তার পরিচিতি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ড্রিবলিং, গতি, সৃষ্টিশীলতা ও গোল করার ক্ষমতার কারণে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে তার ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মাঠের এই সাফল্যের আড়ালে বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা সঙ্গী হলেও, তা মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইয়ামাল দেখিয়েছেন অনন্য দৃঢ়তা। বর্ণবাদকে ভুল ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করলেও প্রতিপক্ষের কোনো মন্তব্য যেন তার ফুটবলকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে—সেটিই তার কাছে প্রধান লক্ষ্য। ১৯ বছর বয়সী এই তারকার এমন অভিজ্ঞতা বিশ্ব ফুটবলে বর্ণবাদের পুরোনো সমস্যাটিকে আবারও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
