হিমালয়ের পাদদেশখ্যাত নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হেনেছে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। লাগাতার বন্যা, ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নেপালেই ৭০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তিব্বতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৬ জন। দুই অঞ্চলেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে তিন হাজারের অধিক মানুষ।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
নদীর পানি বৃদ্ধি ও নতুন বন্যার শঙ্কা
উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানের মাঝেই নতুন করে দেখা দিয়েছে বিপদের আশঙ্কা। নেপালের ভোতে-কোশি নদীর পানি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় আশপাশের লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
ডিএনএ সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার আকুতি
ভয়াবহ এই দুর্যোগে উদ্ধার হওয়া নিহতদের বেশিরভাগের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে অজ্ঞাত মরদেহগুলোর সৎকারের আগে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ের মাঝেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে আড়াইশতাধিক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। তবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলে আটকা পড়া বিপুলসংখ্যক মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এমতাবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে কাঠমান্ডু।
তিব্বতের পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
অন্যদিকে, তিব্বত অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। সেখানেও নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে পাঁচশ’র বেশি মানুষ।
সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে গুঁড়িয়ে গেছে বহু আবাসিক স্থাপনা, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো। পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং উদ্ধারকারী দলের প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ, বিবিসি, আল-জাজিরা
