Noboshakti Logo
ঢাকাসোমাবার , ৩ অগাস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি বিশ্ব
  3. আজকের পত্রিকা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ও জীবন
  6. একদিন প্রতিদিন
  7. কোভিড-১৯
  8. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
  9. খেলা
  10. চাকরি
  11. চিত্র বিচিত্র
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ডাক্তার আছেন
  15. দরকারি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বনকর্মীদের জীবনঝুঁকি নিরসন ও আইনি সুরক্ষার দাবিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ফরেস্ট রেঞ্জারদের স্মারকপত্র পেশ

Link Copied!

মাঠপর্যায়ে বনভূমি জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় বিদ্যমান জীবনঝুঁকি নিরসন, আইনি অস্পষ্টতা দূরীকরণ, প্রশাসনিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) বরাবর স্মারকপত্র দিয়েছে ‘বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার’স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, আঞ্চলিক কমিটি, চট্টগ্রাম অঞ্চল’।

রোববার (০২ আগস্ট) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহরাজ উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক সিফাত আল রাব্বানী স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সুন্দরবনে ফরেস্ট অফিসে হামলা, মৌলভীবাজারে জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান এবং কক্সবাজারের রামুতে বনকর্মীদের ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মাঠপর্যায়ের বনকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পাশাপাশি, কমলা বাগান উচ্ছেদ অভিযানে বনকর্মীদের আইনি এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত এসব কর্মকর্তার জীবন ও কাজের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি ও সুপারিশমালা পেশ করা হয়।

সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও SOP প্রণয়ন: বন আইন-১৯২৭ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষমতা ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করে জরুরি পরিপত্র জারি করা এবং জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) প্রণয়ন।

ন্যায়বিচার ও আইনি সহায়তা সেল গঠন:শহীদ ইউসুফ ও শহীদ সজল (ফরেস্টার) সহ হামলায় হতাহত বনকর্মীদের পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়’ এবং ‘বন অধিদপ্তর’-এর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী আইনি সহায়তা সেল (Legal Support Cell) গঠন।

নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা: অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষায় বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, আধুনিক অস্ত্র, দাঙ্গা প্রতিরোধক হেলমেট, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, প্রতিটি রেঞ্জে ডাবল কেবিন টহল পিকআপ এবং পর্যাপ্ত প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, ঢাকা, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বনাঞ্চলে অভিযান পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO)-এর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা।

বিশেষ ঝুঁকি ভাতা চালু: ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী বনকর্মীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ‘ঝুঁকি ভাতা’ (Risk Allowance) প্রবর্তন করা।

আন্তঃদপ্তর সমন্বয় ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ:হুটহাট বা তড়িঘড়ি করে অভিযান না চালিয়ে লিখিত অফিস আদেশ, পূর্বঘোষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে অভিযান পরিচালনা।

জরুরি চিকিৎসা তহবিল ও হাসপাতাল স্থাপন: আহত কর্মীদের প্রশাসনিক জটিলতামুক্ত দ্রুত চিকিৎসার জন্য ‘Emergency Medical Fund’ গঠন এবং অঞ্চলভিত্তিক নিজস্ব হাসপাতালের মাধ্যমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

বাস্তবভিত্তিক নীতিনির্ধারণ:মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ঝুঁকি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জরুরি নির্দেশনা প্রদান ও যুগোপযোগী নীতি নির্ধারণ।

স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার’স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মেহরাজ উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত আল রাব্বানীর নেতৃত্বে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আবির হাসান, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, ফিরোজ আল আমিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদকসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত ফরেস্ট রেঞ্জারগণ।