Noboshakti Logo
ঢাকামঙ্গলবার , ৪ অগাস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি বিশ্ব
  3. আজকের পত্রিকা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ও জীবন
  6. একদিন প্রতিদিন
  7. কোভিড-১৯
  8. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
  9. খেলা
  10. চাকরি
  11. চিত্র বিচিত্র
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ডাক্তার আছেন
  15. দরকারি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বন্ধ থাকা পাটকলে সুদিন ফেরানোর উদ্যোগ: ইজারা পাচ্ছে আরও ৩ কারখানা, যুক্ত হচ্ছে প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপ

নিজস্ব সংবাদদাতা
অগাস্ট ৪, ২০২৬ ৮:১৬ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো সচল করতে বেসরকারি খাতের ইজারা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত আরও তিনটি বন্ধ পাটকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইজারা পাচ্ছে যে ৩টি কারখানা

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন বন্ধ থাকা ২০টি কারখানার মধ্যে নতুন করে এই তিনটিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রায়পুরে অবস্থিত ‘জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড’ এবং খুলনার দিঘলিয়ার ‘স্টার জুট মিলস লিমিটেড’।

  • হ্যামকো গ্রুপ: খুলনার খালিশপুরের ‘প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড’।

পাটকল করপোরেশনের মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মামনুর রশিদ জানিয়েছেন, ইজারার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। চলতি বছরের মধ্যেই বাকি মিলগুলোর ইজারা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

পাটকল ইজারা ও চালুর বর্তমান চিত্র

বিজেএমসির আওতাধীন মোট ২৫টি কলের মধ্যে ২০টি কল ইজারার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে আগের ১৪টি এবং নতুন ৩টিসহ মোট ১৭টি কারখানা বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়া হলো।

ইজারাপ্রাপ্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমানে অর্ধেক অর্থাৎ ৭টি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে এবং বাকিগুলো চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। উৎপাদনে থাকা ৭টি কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী ৪টি মিল:

    • বাংলাদেশ জুট মিলস (পরিচালনায়: জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড)

    • যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পরিচালনায়: আকিজ জুট)

    • কার্পেটিং জুট মিলস (পরিচালনায়: রিগাল জুট লিমিটেড)

    • ইস্টার্ন জুট মিলস (পরিচালনায়: আটলান্টিক জুট লিমিটেড)এই চার কারখানায় দৈনিক ১৬০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় অর্জিত হচ্ছে।

  • বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনকারী ৩টি মিল:

    • ইউএমসি জুট মিলস (নরসিংদী): বেস্ট সোয়েটার লিমিটেড কর্তৃক ইজারা নিয়ে এটিকে পোশাক কারখানায় রূপান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলক সোয়েটার উৎপাদনে প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

    • রাজশাহী জুট মিলস: প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস লিমিটেড এটি ইজারা নিয়েছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার জোড়া জুতা, ১ হাজার ৩০০ পিস ছাতা এবং ৪০০ পিস তাঁবু উৎপাদিত হচ্ছে। এতে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জন শ্রমিক।

    • অন্যান্য: বাকি কারখানাগুলোতে জুতা, ছাতা, তাঁবু ও স্পেয়ার পার্টসসহ নানা পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বর্তমানে এসব সচল কারখানায় প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন ৯ হাজার ৫২০ জন শ্রমিক-কর্মচারী।

অন্যান্য মিলের বর্তমান অবস্থা

ইজারা কার্যক্রমের বাইরে থাকা বাকি ৫টি কারখানার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের:

খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার দুটি মিলকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

একটি মিল ইজারার তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।

বাকি দুটি মিলের বিষয়ে আইনি বা মামলাজনিত জটিলতা থাকায় এখনই ইজারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি খাতের এই গতিশীল অংশীদারত্ব ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলো পুনরায় সচল হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।