গায়ক, অভিনেতা ও সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মুনিরা হাশেমের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটছে। দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্ক শেষে পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রীতম ও শেহতাজ।

পোস্টে যা জানালেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেই পোস্টে তারা লেখেন, “একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতিগুলোর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এখনো একে অপরের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও যত্ন রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে আমরা উপলব্ধি করেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে আলাদা পথেই আমাদের দুজনের জন্য ভালো থাকা সম্ভব।”
তারা আরও জানান, কোনো আবেগ তাড়িত সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘ চিন্তাভাবনা এবং পরিবারের পূর্ণ সমর্থন নিয়েই তারা বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছেন।
পোস্টের শেষাংশে শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, “এই পরিবর্তনের সময়টিতে আমাদের পরবর্তী অধ্যায়টি যেন নিজেদের মতো করে সামলাতে পারি, সে জন্য বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের কাছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও বিষয়টির প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রাখার অনুরোধ করছি।”
‘জাদুকর’ থেকে শ্রীমঙ্গল: সম্পর্কের শুরু ও বিয়ে প্রীতম ও শেহতাজের প্রেমের সূচনা হয় সংগীতের মধ্য দিয়েই। প্রীতম হাসানের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছিলেন শেহতাজ। সেই শুটিংয়ের সময় থেকেই গড়ে ওঠে পরিচয় ও ভালো লাগা, যা পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
দীর্ঘদিন চুটিয়ে প্রেম করার পর, ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচতারকা হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই যুগল।
বিরোধ নয়, বোঝাপড়ার অভাব শেহতাজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের কলহ, বিরোধিতা বা একে অপরের প্রতি অভিযোগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নয়; কেবল সম্পর্কের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়ার অভাব থেকেই তারা সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রয়াত প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী খালিদ হাসান মিলুর ছোট ছেলে প্রীতম হাসান বহু একক গান, অ্যালবাম ও চলচ্চিত্রের সংগীতায়োজন করে সংগীতাঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। পাশাপাশি অভিনেতা হিসেবেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
