কিছু দুঃখ আছে—
ঝড়ের বেগে আসা বাতাসের মতো ঘুরতে থাকে।
কখনো তারা জানালায় এসে দাঁড়ায়,
কখনো কপাট দিয়ে নিঃশব্দে ঘরে ঢোকে,
কখনো মানুষের বুকের ভেতর
একটা অদৃশ্য ঘর বানিয়ে থাকে।
আজ আবার ঝড় উঠেছে,
অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে।
উঠোনে কাদা জমছে,
নতুন মাটি নরম হয়ে পায়ের ছাপ ধরে রাখছে।
পথটা পিচ্ছিল—
যেন কোথাও যাওয়ার পথ আজ নিজেই নিজের কাছে হারিয়ে গেছে।
সন্ধ্যা নামার আগেই
সব পাখি ফিরে গেছে আপন নীড়ে।
শুধু একটি শালিক—
গাছের এক শুকনো ডালে
এখনো একা বসে আছে,
হয়তো কারও অপেক্ষায়।
রাত্রিজুড়ে টিনের চালে বৃষ্টি অবিরাম—
মনে হয়, এই বুঝি দরজায় এসে কেউ ডাকবে আমার নাম!
ছুটে যাই জানালার কাছে।
দরজার ওপাশে শুধু বৃষ্টি,
উঠোনের ওপাশে শুধু কাদা,
পথের শেষে শুধু অন্ধকার।
ফিরে দেখি—
ঘরের আঙিনায়
কতদিন ধরে জমে আছে নীল বিষাদ!
এদিক-ওদিক খুঁজি—
কোথাও কেউ নেই,
শুধু শোক, শুধু ভেজা বাতাস।
বৃষ্টি—
তুমি ঝরো।
এই মাটির ঘরের
জ্বলতে থাকা কুপির ওপর ঝরো,
যেখানে আলোটুকুও
নিভু নিভু প্রায়।
ভাঙা কাঁঠাল গাছের ডালে
বসে থাকা সেই একলা শালিকের ওপর ঝরো—
তার ডানায় জমে থাকা
অজানা অপেক্ষাটুকু ধুয়ে দাও।
নতুন মাটি ফেলা উঠোনের ওপর ঝরো,
যেন মাটিও বুঝতে পারে—
ভেঙে যাওয়ার পরেও
মানুষ নতুন করে ঘর বানাতে চায়।
সদ্য ফোটা ফুলের পাপড়ির ওপর ঝরো,
তার কোমল দেহে
তোমার সমস্ত বেদনা রেখে যাও।
আর তারপর—
আমার চোখের ভেতরেও ঝরো।
অনেকদিন ধরে সেখানে
একটা মেঘ জমে আছে।
ঝরো,
যতক্ষণ না সেই মেঘ ভেঙে যায়,
যতক্ষণ না বুকের ভেতর
জমে থাকা কথাগুলো
জলের মতো বেরিয়ে আসে।
বৃষ্টি—
তুমি তাই ঝরো।
আমার দরজায়,
আমার জানালায়,
আমার নির্জন উঠোনে,
সেই একলা শালিকের ডানায়—
যেখানে আজও
সন্ধ্যা নামলেই মনে হয়—
এই বুঝি সে এলো!
এই বুঝি
কাদামাখা উঠোন পেরিয়ে
নিঃশব্দে এসে দাঁড়াবে আঙিনায়!
কেউ নয়, শুধু বৃষ্টি আসে।
আর বৃষ্টির সঙ্গে
ফিরে আসে
সমস্ত না-পাওয়া,
সমস্ত অপেক্ষা,
সমস্ত ভালোবাসা,
আর এক জীবনের
অগণিত দীর্ঘশ্বাস।
নীল বিষাদ ও একলা শালিক

