Noboshakti Logo
ঢাকাশুক্রবার , ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি বিশ্ব
  3. আজকের পত্রিকা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ও জীবন
  6. একদিন প্রতিদিন
  7. কোভিড-১৯
  8. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
  9. খেলা
  10. চাকরি
  11. চিত্র বিচিত্র
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ডাক্তার আছেন
  15. দরকারি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ইন্তেকাল ও দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
অগাস্ট ১৪, ২০২৬ ৯:০১ অপরাহ্ন
Link Copied!

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারের প্যারেড গ্রাউন্ডে সামরিক মর্যাদায় মরহুমের নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মরহুমের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা ও প্যারেড শেষে মরহুমের সম্মানার্থে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কর্তৃক একটি মনোমুগ্ধকর ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সামরিক মর্যাদায় তাঁকে বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত শাহীন কবরস্থানে দাফন করা হয়। আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন
এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব থানাধীন বাইশপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম আব্দুল আউয়াল এবং মাতার নাম হোসনে আরা বেগম।

তিনি ১৯৬৭ সালে পিএএফ কলেজ, সারগোদা থেকে সিনিয়র ক্যামব্রিজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

সামরিক জীবন ও কর্মময় অবদান
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৬৮ সালের ২ আগস্ট পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে জিডি(পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। স্বাধীনতার পর দেশমাতৃকার টানে ১৯৭২ সালের ২৯ মে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনী ত্যাগ করে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন।

তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত চৌকস বৈমানিক। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি পিটি-৬, টি-৬জি, এয়ার ট্যুরার, এএন-২৪/২৬, বেল-২০৬, ফুগা, এসএফ-২৫সি এবং এএন-৩২ সহ বিভিন্ন বিমানে সফলতার সঙ্গে ৫০০০ ঘণ্টার অধিক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন।

পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের অংশ  নিতে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর্স কোর্স

জুনিয়র কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স

এয়ার স্টাফ কোর্স

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ফ্লাইং কনভারশন কোর্স (এএন-২৪/২৬) ও ফেমিলিয়ারাইজেশন কোর্স (এএন-৩২)

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স

চীন থেকে এনডিইউ কোর্স

গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহ
কর্মজীবনে তিনি বিমানবাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য দায়িত্বসমূহের মধ্যে রয়েছে:

৩ নং স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক

এফআইএস-এর অধিনায়ক

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ও কমান্ড্যান্ট

বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারের এয়ার অধিনায়ক

বিমান প্রশিক্ষণ পরিদপ্তর ও বিমান পরিচালন পরিদপ্তরের পরিচালক

ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি), মিরপুরের এয়ার ডিএস

বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে

বিমানবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন
সবশেষ তিনি ২০০১ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ৩১ বছর ২৫ দিন গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবন শেষে বিমানবাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল অবসর গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত গুণাবলি ও শোক প্রকাশ
পেশাগত জীবনে এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ছিলেন একজন দক্ষ, মেধাবী ও অনুসরণীয় বৈমানিক। দেশের সেবায় তাঁর নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ সর্বদা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, নিরহংকারী, সদালাপী ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। তাঁর এই প্রয়াণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী হারাল একজন অভিভাবককে, যাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিমানবাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও রহমত কামনা করে আইএসপিআর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।