উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় শীর্ষ বৈঠকে বসতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রহ প্রকাশ করলেও, পিয়ংইয়ংয়ের শর্তসাপেক্ষ প্রতিক্রিয়া এবং একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা আপাতত কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
-
ট্রাম্পের অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কূটনৈতিক সফলতার অংশ হিসেবে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসরও কমিয়ে এনেছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের সময় এই বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর: ওয়াশিংটন কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি থাকলেও, তাদের মূল লক্ষ্য পিয়ংইয়ংয়ের সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ।
উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া ও সামরিক পদক্ষেপ
-
শর্তহীন আলোচনা প্রত্যাখ্যান: কিম জং উনের শক্তিশালী বোন কিম ইয়ো জং মার্কিন পদক্ষেপগুলোকে অপ্রতুল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সামরিক মহড়ার পরিসর কমালেই যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক নীতি বদলে যায় না।
-
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: সিউল ও ওয়াশিংটনের যৌথ মহড়ার প্রতিবাদে উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
-
ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও জাতীয় স্বার্থ: পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার “চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক” কোনো অবস্থাতেই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামরিক কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে আপস করবে না।
বৈঠকের জন্য উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য শর্তাবলী
বিশ্লেষকদের (যেমন—স্টিমসন সেন্টারের জেনি টাউন) মতে, বৈঠকে বসতে হলে ওয়াশিংটনকে কয়েকটি কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে:
-
উত্তর কোরিয়ার প্রতি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা।
-
পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বা শত্রুতামূলক মনোভাব দূর করা।
-
উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অথবা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি পরিত্যাগ করা।
২০১৮–১৯ সালের তুলনায় বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন
২০১৮ ও ২০১৯ সালের নজিরবিহীন বৈঠকের পর বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান অনেক শক্তিশালী:
-
অর্থনৈতিক বিকল্প: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে পিয়ংইয়ং অর্থনৈতিকভাবে এখন অনেকটাই স্থিতিশীল।
-
সামরিক সহযোগিতা: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে পিয়ংইয়ং, যা তাদের চুক্তি করার শক্তি ও বিকল্প সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ কূটনীতির সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের (যেমন—কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের হং মিন) মতে, উত্তর কোরিয়া আলোচনার দরজা একেবারে বন্ধ করেনি। পিয়ংইয়ং মূলত ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রেখে আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে চাইছে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ভূমিকা থাকবে সীমিত।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া উভয় পক্ষই সরাসরি আলোচনায় না গিয়ে একে অপরের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সামরিক ও রাজনৈতিক সংকেত পাঠাচ্ছে।
